কলকাতার পটভূমিতে লেখা একটি উপন্যাস এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আমেরিকার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য সম্মান US National Book Award-এর জন্য মনোনীত হয়েছে The Guardian and a Thief — লেখিকা Megha Majumdar-এর নতুন সৃষ্টি। আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে চলা জমকালো অনুষ্ঠানে ঘোষণা করা হবে বিজয়ীর নাম, আর সাহিত্য মহলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে উত্তেজনা।

🗞️ Story Highlights

  • The Guardian and a Thief shortlisted for US National Book Award ২০২৫

  • Oprah Winfrey’s Book Club ঘোষণা করেছে এটিকে বছরের অন্যতম সেরা উপন্যাস

  • প্রেক্ষাপট: জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্ভিক্ষে বিপর্যস্ত এক ভবিষ্যতের কলকাতা

  • লেখিকা Megha Majumdar-এর আগের উপন্যাস The Burning ছিল New York Times Bestseller

  • প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত লেখক হিসেবে National Book Award জয়ের সম্ভাবনা

A new Calcutta story on the global stage

লেখিকা Megha Majumdar-এর প্রথম বই The Burning আন্তর্জাতিক পাঠকমহলে যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল, তার পর থেকেই সাহিত্যের জগৎ তাকিয়ে ছিল তাঁর পরবর্তী কাজের দিকে। সেই প্রতীক্ষার প্রতিদানই যেন The Guardian and a Thief। বইটি মনোনীত হয়েছে US National Book Award 2025-এর ফিকশন বিভাগে, যা আমেরিকার সাহিত্যজগতে অত্যন্ত সম্মানজনক একটি স্বীকৃতি।

পূর্বে এই পুরস্কার পেয়েছেন সল বেলো-এর মতো সাহিত্য কিংবদন্তি, আবার Jhumpa Lahiri ছিলেন ২০১৩ সালের ফাইনালিস্ট। ফলে Megha Majumdar-এর নাম উঠে আসা নিঃসন্দেহে ভারতীয় সাহিত্যিক গর্বের বিষয়।

The Oprah effect: “Spellbound from page one”

তবে The Guardian and a Thief কেবল সাহিত্য পুরস্কারের দৌড়ে নয়, পাঠকপ্রিয়তার ক্ষেত্রেও রীতিমতো আলোড়ন তুলেছে। Oprah Winfrey’s Book Club ঘোষণা করেছে, এই উপন্যাস ২০২৫ সালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্য।

অপরা লিখেছেন,

“From page one, I was spellbound. Megha Majumdar is one of those exquisitely skilled authors who take us deep into their world — into the conflicts, the culture, the characters — and keep us thinking long after the last word.”

এই স্বীকৃতি যে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ, তা বোঝা যায় এর আগের উদাহরণ থেকে। চিকিৎসক-লেখক Abraham Verghese-এর The Covenant of Water যখন ২০২৩ সালে অপরা-র বুক ক্লাবে নির্বাচিত হয়েছিল, তখন তার বিক্রি দুই মিলিয়নেরও বেশি কপি ছাড়িয়েছিল।

কাহিনী: জলবায়ু, সংকট এবং কলকাতা

The Guardian and a Thief উপন্যাসটি এক নিকট ভবিষ্যতের কলকাতাকে কেন্দ্র করে, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্ভিক্ষ শহরটিকে ধ্বংসের প্রান্তে ঠেলে দিয়েছে। এই ভাঙা শহরের মধ্যে দারিদ্র্য আর প্রাচুর্যের সংঘাতই গড়ে তুলেছে কাহিনির মূল স্রোত।

গল্পের কেন্দ্রে দুই চরিত্র—মা এবং বুম্বা। ধনী পরিবারের মা, যার পরিবার আমেরিকার মিশিগানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে “climate visa” পেয়ে। অন্যদিকে, বুম্বা একজন তরুণ চোর, যে মায়ের বাড়িতে খাবার খুঁজতে গিয়ে ভুলবশত সেই জীবনরক্ষাকারী ভিসাগুলি থাকা পার্সটি চুরি করে ফেলে।

মজুমদার লিখেছেন,

“Didn’t Boomba’s family deserve the smallest part of such a life — a home that allowed neither mosquito nor rainwater nor robber to assault them?”

এই এক বাক্যেই প্রকাশ পায় তাঁর কলমের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানবিক সংবেদন।

চরিত্র হিসেবে কলকাতা

Megha Majumdar-এর লেখায় কলকাতা কেবল পটভূমি নয়, বরং এক জীবন্ত চরিত্র। তাঁর ভাষায় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে শহরটি হয়ে উঠেছে “a grim, famine-ridden and frequently flooded megalopolis।”

ধনীদের বিলাসিতা আর গরিবদের বেঁচে থাকার সংগ্রামকে পাশাপাশি রেখে তিনি গড়ে তুলেছেন এক আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির সাহিত্যজগৎ।

“It was a country of grocery stores as large as aircraft hangars… unlike famine-hit Calcutta, where guavas were hard as hail,” — এই তুলনামূলক বর্ণনা তাঁর কলমে বাস্তব ও প্রতীক দুই-ই হয়ে ওঠে।

কলকাতা থেকে বিশ্বমঞ্চে-মেঘা মজুমদারের যাত্রা

কলকাতায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা Megha Majumdar ১৯ বছর বয়সে পাড়ি দেন আমেরিকায়। Harvard University থেকে সমাজ-নৃতত্ত্বে স্নাতক ও Johns Hopkins University থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি প্রকাশনা সংস্থা Catapult-এ যোগ দেন এবং ২০২১ সালে হন এর Editor-in-Chief

তিনি বলেন,

“I really wanted to learn how to think for myself — in India, education felt too exam-oriented. I didn’t know how to question a text or form an opinion.”

প্রথম বই The Burning ২০২০ সালে New York Times Bestseller হয় এবং তাঁকে আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিত করে তোলে। এবার The Guardian and a Thief তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে আরও বৃহত্তর পরিসরে।

ভবিষ্যতের কণ্ঠস্বর

Megha Majumdar জানিয়েছেন, মাতৃত্ব তাঁর লেখায় নতুন সংবেদন এনেছে। “Being a mother helped me find the emotional center of this book,” — বলেছেন তিনি। ছয় বছর ধরে তিনি লিখেছেন The Guardian and a Thief, যেখানে মানবিক আবেগ, সামাজিক বৈষম্য এবং জলবায়ুর বাস্তবতা এক সুতোয় গাঁথা।

তিনি আরও বলেন,

“The reality of climate change is approaching. This book is a glimpse at who we might be — with our love, our wounds and aspirations — in that situation.”

কলকাতার সাহিত্যিক উত্তরাধিকার অব্যাহত

কলকাতা বরাবরই সাহিত্যের শহর। Dominique Lapierre-এর City of Joy, Amitav Ghosh-এর The Calcutta Chromosome বা Jhumpa Lahiri-র The Namesake—সব ক্ষেত্রেই এই শহর হয়ে উঠেছে গল্পের প্রাণ।

The Guardian and a Thief সেই ধারারই আধুনিক প্রতিধ্বনি। জলবায়ু সঙ্কট, সামাজিক বৈষম্য ও মানুষের নৈতিক দোটানার প্রেক্ষাপটে এই উপন্যাস একবিংশ শতাব্দীর কলকাতাকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে।

আজকের পৃথিবীতে যেখানে পরিবর্তিত জলবায়ু ও বৈষম্য মানবসভ্যতার মুখোমুখি, সেখানে Megha Majumdar-এর The Guardian and a Thief আমাদের মনে করিয়ে দেয়—কলকাতার গল্প কেবল একটি শহরের নয়, এটি আমাদের সবার গল্প।

কলকাতার সাহিত্যিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় Megha Majumdar-এর The Guardian and a Thief এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। উপন্যাসটি যেমন সমকালীন বাস্তবতার আয়না, তেমনই ভবিষ্যতের এক সতর্ক বার্তা—জলবায়ু পরিবর্তন, বৈষম্য ও মানবিক টানাপোড়েনের প্রতিচ্ছবি। আন্তর্জাতিক সাহিত্যমঞ্চে এই বইয়ের স্বীকৃতি শুধু লেখিকার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং ভারতীয় বংশোদ্ভূত লেখকদের জন্য এক গর্বের প্রতীক।

আজ The Guardian and a Thief প্রমাণ করছে যে Megha Majumdar শুধু কলকাতার নয়, বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী কণ্ঠ হয়ে উঠেছেন—যিনি মানুষের সংগ্রাম, ভালোবাসা ও আশার গল্পকে নতুন করে বলছেন এমন এক ভাষায়, যা ছুঁয়ে যায় মন ও মনুষ্যত্ব দু’টোই।

আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য অশেষ ধন্যবাদ! ❤️আমরা সবসময় চেষ্টা করি আপনাদের জন্য তথ্যসমৃদ্ধ, আকর্ষণীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ কন্টেন্ট তৈরি করতে, যাতে আপনি নতুন কিছু জানতে ও শিখতে পারেন। আপনার যদি কোনো প্রশ্ন থাকে বা আমাদের সঙ্গে আপনার মতামত শেয়ার করতে চান, তাহলে “যোগাযোগ করুন” ফর্ম ব্যবহার করে সরাসরি আমাদের সাথে কথা বলুন। আমরা আগ্রহের সঙ্গে আপনার কথা শুনতে প্রস্তুত এবং আপনার প্রতিক্রিয়াকে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করি। এছাড়াও, ভবিষ্যতের আপডেট, নতুন নিবন্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস না করতে আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকুন—একসঙ্গে জানবো, শিখবো, আর নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্ব দেখবো

Leave a Reply