কলকাতা ফের শোক ও আতঙ্কে আচ্ছন্ন। শহরের আলিপুর এলাকায় ঘটেছে এক মর্মান্তিক ঘটনা— RG Kar Hospital rape and murder case-এর দোষী সঞ্জয় রায়ের ১১ বছরের ভাতিজি নিজের ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে। রবিবার বিকেলের এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়।
📰 Story Highlights (Read Box):
RG Kar Hospital মামলার দোষীর ভাতিজি ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার কলকাতায়
মেয়েটি বাড়িতে একা ছিল, দরজা ভেঙে উদ্ধার দেহ
ঘটনাস্থলে পুলিশ, দেহ পাঠানো হয়েছে SSKM হাসপাতালে
প্রাথমিক রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ ‘হ্যাংগিং’, মৃত্যু ‘অ্যান্টিমর্টেম’
আলিপুর থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতা মেয়েটি রবিবার দুপুরে বাড়িতে একাই ছিল। তার মা মারা যাওয়ার পর থেকে সে পিসি, পুজা রায়ের সঙ্গে থাকত। পরিবারের সদস্যরা বাজারে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফিরে তাঁরা দেখেন, মেয়েটির ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। অনেক ডাকাডাকির পরও কোনও সাড়া না মেলায় শেষমেশ দরজা ভেঙে ফেলা হয়।
দরজা ভাঙতেই চোখে পড়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য— মেয়েটি আলমারির সঙ্গে থাকা কাঠামোয় গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে।
পরিবার দ্রুত আলিপুর থানায় খবর দেয়। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং প্রয়োজনীয় প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পরে দেহ পাঠানো হয় SSKM Hospital-এ ময়নাতদন্তের জন্য।
এক পুলিশ আধিকারিক বলেন,
“প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, মৃত্যু অ্যান্টিমর্টেম প্রকৃতির এবং ঝুলে মৃত্যুর ফল। ঘটনাটি এখন পর্যন্ত অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।”
আরও একটি পুলিশ সূত্র জানায়,
“ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা গিয়েছে, এটি সম্ভবত partial hanging— কারণ মৃতার পায়ের একটি অংশ মাটিতে স্পর্শ করছিল।”
তদন্তে আলিপুর থানার পুলিশ
পুলিশ এখন পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। জানা গিয়েছে, মেয়েটি সম্প্রতি কিছুটা চুপচাপ হয়ে পড়েছিল। তবে কোনও স্পষ্ট আত্মহত্যার নোট পাওয়া যায়নি।
পুলিশের এক তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন,
“আমরা খতিয়ে দেখছি, শিশুটি কি কোনও মানসিক চাপ বা ডিপ্রেশনে ভুগছিল, নাকি অন্য কোনও পারিবারিক বা সামাজিক কারণ এই ঘটনার পেছনে ছিল।”
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই গোটা এলাকায় নেমেছে স্তব্ধতা। প্রতিবেশীরা বলছেন, মেয়েটি সাধারণত চঞ্চল ও মিষ্টি স্বভাবের ছিল, এমন কিছুই বোঝা যায়নি যা আত্মহত্যার দিকে ইঙ্গিত করে।
RG Kar Hospital মামলার পটভূমি
এই ঘটনায় ফের আলোচনায় এসেছে বহুল বিতর্কিত RG Kar Hospital rape and murder case, যা গত বছর কলকাতায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল। ওই মামলার দোষী সঞ্জয় রায়, যিনি কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন সিভিক ভলান্টিয়ার, আদালতে দোষী প্রমাণিত হয়ে বর্তমানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
২৬ বছর বয়সি এক মহিলা পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসককে RG Kar Hospital-এর ভিতর ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল সঞ্জয় রায়কে। ওই ঘটনার নৃশংসতা গোটা Kolkata ও দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে তখন আন্দোলনে উত্তাল হয়েছিল শহর।
সমাজে প্রতিক্রিয়া ও প্রশ্ন
এবার সেই দোষীর পরিবারের মধ্যেই ঘটল আরেকটি ট্র্যাজেডি। ছোট্ট মেয়েটির মৃত্যুতে প্রশ্ন উঠছে— মানসিক আঘাত, সামাজিক চাপ, এবং অপরাধী পরিবারের পরিচয়ের ছায়া কি শিশুটির জীবনে কোনও প্রভাব ফেলেছিল?
স্থানীয়দের একাংশের মতে, “মেয়েটি হয়তো পরিবারে ঘটে যাওয়া অতীত ঘটনার মানসিক অভিঘাত থেকে পুরোপুরি বেরোতে পারেনি।”
তবে পুলিশ এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছোচ্ছে না। তদন্ত চলবে বলে জানিয়েছে আলিপুর থানার আধিকারিকরা।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে Kolkata-র সামাজিক মানসিক স্বাস্থ্য ও শিশুদের মানসিক সুরক্ষার প্রশ্ন। শহরবাসী এখন তাকিয়ে আছে তদন্তের ফলাফলের দিকে— কীভাবে এবং কেন এই অকাল মৃত্যু ঘটল, তার উত্তরই এখন খুঁজছে পুলিশ।
আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য অশেষ ধন্যবাদ! ❤️আমরা সবসময় চেষ্টা করি আপনাদের জন্য তথ্যসমৃদ্ধ, আকর্ষণীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ কন্টেন্ট তৈরি করতে, যাতে আপনি নতুন কিছু জানতে ও শিখতে পারেন। আপনার যদি কোনো প্রশ্ন থাকে বা আমাদের সঙ্গে আপনার মতামত শেয়ার করতে চান, তাহলে “যোগাযোগ করুন” ফর্ম ব্যবহার করে সরাসরি আমাদের সাথে কথা বলুন। আমরা আগ্রহের সঙ্গে আপনার কথা শুনতে প্রস্তুত এবং আপনার প্রতিক্রিয়াকে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করি। এছাড়াও, ভবিষ্যতের আপডেট, নতুন নিবন্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস না করতে আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকুন—একসঙ্গে জানবো, শিখবো, আর নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্ব দেখবো
