বর্তমানে ভারতীয় অ্যাপ এবং ভারতীয় স্টার্টআপ মূলধারার মিডিয়া কাভারেজে যে পর্যাপ্ত গুরুত্ব পাচ্ছে না, তা স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে। দেশের প্রযুক্তি শিল্পের উন্নতি সত্ত্বেও, সংবাদমাধ্যমে দেশীয় উদ্যোগের প্রচার তুলনামূলকভাবে কম। বিদেশী অ্যাপ ও স্টার্টআপের তুলনায় ভারতীয় উদ্ভাবনকে অবজ্ঞা করার প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। এই অবহেলা শুধুমাত্র প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের সংগ্রাম বাড়িয়ে তুলছে না, বরং দেশের উদ্ভাবনী শক্তিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে। কেন সংবাদমাধ্যমে ভারতীয় অ্যাপ ও উদ্যোগকে ন্যায্য গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন আজ সর্বত্র। এখনই সময়, এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবনের।
সূচিপত্র
Toggleবিষয়টা ঠিক কী?
ভারতীয় অ্যাপ এবং ভারতীয় স্টার্টআপের সাফল্য গত কয়েক বছরে অভূতপূর্ব হলেও, মূলধারার মিডিয়া কাভারেজ এই জগতের অনেকটাই উপেক্ষা করেছে। বিষয়টি বেশ জটিল এবং গভীর। চলুন, ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করি।
মিডিয়ার অদৃশ্য দেয়াল
সংবাদমাধ্যম কি ভারতীয় উদ্ভাবনকে অবজ্ঞা করছে? আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এই প্রশ্ন আর শুধুই অনুমান নয়।
অনেক সময় মূলধারার সংবাদমাধ্যম শুধুমাত্র বড় বিদেশি অ্যাপ ও স্টার্টআপ নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত থাকে।
ভারতীয় স্টার্টআপের সাফল্য থাকা সত্ত্বেও সংবাদমাধ্যমের নীরবতা যেন এক অব্যক্ত বার্তা দেয়: দেশীয় উদ্যোগের সাফল্য খুব একটা “বিক্রয়যোগ্য খবর” নয়।
দেশীয় অ্যাপ বনাম বিদেশী অ্যাপ
দেশের নিজস্ব অ্যাপ ও স্টার্টআপকে মিডিয়ার উপেক্ষার কারণ আসলে কোথায়?
বিদেশী অ্যাপের ঝাঁ-চকচকে বিজ্ঞাপন ও বিপুল বাজেটের কাছে ভারতীয় অ্যাপ প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে।
মূলধারার মিডিয়া কাভারেজে দেশের স্টার্টআপগুলির পরিচিতি পাওয়া যেন সোনার পাথরবাটি।
সত্যিকারের উদাহরণ: কু-এর গল্প
কু (Koo) — একেবারে দেশীয় ভারতীয় অ্যাপ, যেটি টুইটারের বিকল্প হিসাবে তৈরি হয়েছিল।
যখন ভারতে সোশ্যাল মিডিয়া নীতিতে ঝড় বয়ে যায়, কু রীতিমতো আলোড়ন তুলেছিল।
অথচ, সংবাদমাধ্যম কি ভারতীয় উদ্ভাবনকে অবজ্ঞা করছে সেই প্রশ্ন আরও প্রকট হল, কারণ কু’র এই সাফল্য মূলধারার মিডিয়ায় খুব সামান্য জায়গা পেল।
বরং আন্তর্জাতিক অ্যাপগুলির সামান্য আপডেটকেই অনেক বড় খবর বানানো হল।
প্রচারের অভাব মানেই ক্ষতি
ভারতীয় অ্যাপ ও উদ্যোগের প্রচারে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যখন ভারতীয় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি মূলধারার আলোচনায় থাকে না, তখন সাধারণ মানুষের আস্থা গড়ে ওঠে না।
কেন ভারতীয় অ্যাপগুলি মূলধারার মিডিয়ায় পর্যাপ্ত গুরুত্ব পাচ্ছে না, সেটাই একটি প্রধান কারণ — প্রচারের অভাবে বাজার তৈরি হতে সময় লাগে।
মিডিয়ার পক্ষপাত ও বিদেশী প্রভাব
মিডিয়া কেন বিদেশী অ্যাপের তুলনায় দেশীয় অ্যাপকে কম প্রচার করে? এর নেপথ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপন বাজেটের বিশাল চাপ।
সংবাদমাধ্যমের অনেক সংস্থা বিদেশী অ্যাপ ও স্টার্টআপের বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভরশীল।
ফলাফল? মূলধারার সংবাদমাধ্যমে দেশীয় অ্যাপের তুলনামূলক অবহেলা!
প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের নিরব সংগ্রাম
অনেক ভারতীয় স্টার্টআপ নিজেদের প্রচারের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ও গ্রাসরুট ক্যাম্পেইন বেছে নিচ্ছে।
কারণ স্টার্টআপ জগতে মিডিয়ার অবদান ও বর্তমান অবস্থা একেবারে অপ্রতুল।
একটি সত্য ঘটনা — “চিঙ্গারি” নামে একটি ভারতীয় অ্যাপ যখন টিকটক নিষিদ্ধের পরে দ্রুত জনপ্রিয় হয়, তখনও সংবাদমাধ্যমে তাদের নিয়ে বড় করে আলোচনা হয়নি। অথচ, ওই সময় তারা কয়েক মিলিয়ন ব্যবহারকারী অর্জন করেছিল মাত্র কয়েক সপ্তাহে!
ছোট্ট ভাবনার খোরাক:
আজ যদি সংবাদমাধ্যম কি ভারতীয় উদ্ভাবনকে অবজ্ঞা করছে এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর খুঁজে বের না করা হয়, তাহলে আগামীদিনে আর কত নতুন ভারতীয় স্টার্টআপ হারিয়ে যাবে ইতিহাসের পাতায়, তা কি আমরা অনুমান করতে পারব?
.jpg)
কেন এটা এত ট্রেন্ডিং হয়ে উঠেছে?
বর্তমানে ভারতীয় অ্যাপ ও ভারতীয় স্টার্টআপ নিয়ে যে আলোচনার ঢেউ উঠেছে, তার নেপথ্যে আছে কিছু অদেখা কারণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা। আসুন, একে একে দেখি কেন সংবাদমাধ্যম কি ভারতীয় উদ্ভাবনকে অবজ্ঞা করছে প্রশ্নটি এত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
দেশপ্রেমের নতুন তরঙ্গ
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর মতো উদ্যোগের ফলে মানুষ দেশের নিজস্ব ভারতীয় অ্যাপ এবং ভারতীয় স্টার্টআপ সম্বন্ধে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
অথচ কেন ভারতীয় অ্যাপগুলি মূলধারার মিডিয়ায় পর্যাপ্ত গুরুত্ব পাচ্ছে না, সেই প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে জনমানসে একটা চাপা ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।
এই ক্ষোভই বিষয়টিকে আরও বেশি ট্রেন্ডিং করে তুলেছে।
আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ এবং দেশীয় প্রতিরোধ
TikTok-এর নিষেধাজ্ঞার পর, ভারতীয় বাজারে দেশীয় অ্যাপগুলির চাহিদা এক ধাক্কায় বেড়ে যায়।
চিঙ্গারি, মিত্রন, জোশ ইত্যাদি ভারতীয় অ্যাপ দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়, কিন্তু মূলধারার মিডিয়া কাভারেজ তাদের ন্যায্য গুরুত্ব দেয়নি।
এই বৈষম্য থেকেই সৃষ্টি হয় প্রশ্ন: সংবাদমাধ্যম কি ভারতীয় উদ্ভাবনকে অবজ্ঞা করছে?
সত্য ঘটনা: ভারতীয় অ্যাপের অজানা লড়াই
একবার ভারতীয় স্টার্টআপ “ভারটেক” একটি নতুন এডুকেশন অ্যাপ বাজারে আনে।
মাত্র ৬ মাসের মধ্যে তাদের ৫০,০০০ ব্যবহারকারী হয়, অথচ মূলধারার সংবাদমাধ্যমে দেশীয় অ্যাপের তুলনামূলক অবহেলা এতটাই ছিল যে, অধিকাংশ মানুষ তাদের নামই জানত না।
পরে তারা ফেসবুক ক্যাম্পেইন চালিয়ে নিজেদের ব্র্যান্ড পরিচিতি গড়ে তোলে।
এই ঘটনা প্রমাণ করে দেয় ভারতীয় অ্যাপ ও উদ্যোগের প্রচারে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা ঠিক কতটা অপরিহার্য।
বিদেশী অ্যাপের দাপট: এক অপ্রকাশিত বাস্তবতা
আজও বড় মিডিয়া হাউজগুলি আন্তর্জাতিক অ্যাপ যেমন ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব ইত্যাদির প্রতি অগ্রাধিকার দেয়।
মিডিয়া কেন বিদেশী অ্যাপের তুলনায় দেশীয় অ্যাপকে কম প্রচার করে, তার অন্যতম কারণ এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলির বিপুল বিজ্ঞাপন বাজেট।
ফলে ভারতীয় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি কি সংবাদমাধ্যমে পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছে — এই প্রশ্ন প্রকট হয়ে উঠছে।
ডিজিটাল অর্থনীতির নতুন বাস্তবতা
ভারতীয় ডিজিটাল অর্থনীতি প্রতিদিন দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
অথচ, মূলধারার মিডিয়া যদি যথাযথভাবে ভারতীয় অ্যাপ এবং ভারতীয় স্টার্টআপকে তুলে না ধরে, তাহলে দেশীয় উদ্ভাবনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
তাই আজ সংবাদমাধ্যম কি ভারতীয় উদ্ভাবনকে অবজ্ঞা করছে — এই আলোচনাটি শুধুমাত্র আবেগ নয়, বাস্তব প্রয়োজনেরও প্রতিফলন।
সাধারণ মানুষের সোচ্চারতা
সাধারণ ব্যবহারকারীরা এখন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্ন তুলছেন: কেন ভারতীয় অ্যাপগুলি মূলধারার মিডিয়ায় পর্যাপ্ত গুরুত্ব পাচ্ছে না?
ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), এবং ইনস্টাগ্রামের মত প্ল্যাটফর্মে বহু ভারতীয় নাগরিক দেশীয় অ্যাপ সমর্থনের পোস্ট করছেন।
এই সোচ্চার প্রতিক্রিয়াই ভারতীয় স্টার্টআপের সাফল্য থাকা সত্ত্বেও সংবাদমাধ্যমের নীরবতা নিয়ে বিতর্ককে আরও উস্কে দিয়েছে।
ছোট্ট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ:
যখন একটা দেশ নিজের উদ্ভাবন নিয়ে গর্ব করতে শুরু করে, তখন মিডিয়ায় ভারতীয় উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা না হওয়াটা একটা জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তাই আজ, সংবাদমাধ্যম কি ভারতীয় উদ্ভাবনকে অবজ্ঞা করছে এই প্রশ্নের উত্তর চাওয়া মানে ভবিষ্যতের ভারত গড়ার জন্য সচেতন হওয়া।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (একটু ধাক্কা লাগবে শুনে!)
আজ যখন ভারতীয় অ্যাপ এবং ভারতীয় স্টার্টআপ নিয়ে এত চর্চা হচ্ছে, তখন কিছু অপ্রকাশিত তথ্য সামনে আসছে, যেগুলো শুনলে সত্যিই মনে ধাক্কা লাগবে। আসুন দেখি বিশ্লেষণ করে:
৯২% মিডিয়া কভারেজ যায় বিদেশী অ্যাপের দিকে!
এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতের মূলধারার মিডিয়া কাভারেজ-এর প্রায় ৯২% সময় ও পৃষ্ঠাসংখ্যা বিদেশী অ্যাপ ও সংস্থাগুলির খবর নিয়েই ব্যয় হয়।
অথচ দেশের নিজস্ব অ্যাপ ও স্টার্টআপকে মিডিয়ার উপেক্ষার কারণ সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি বড় মিডিয়া হাউজগুলি।
এই অবহেলা থেকেই প্রশ্ন জাগে, সংবাদমাধ্যম কি ভারতীয় উদ্ভাবনকে অবজ্ঞা করছে?
“কুপন বাবু” অ্যাপের হারিয়ে যাওয়া সম্ভাবনা
২০১৯ সালে, বেঙ্গালুরুর এক যুবক একটি ভারতীয় অ্যাপ তৈরি করেছিলেন — “কুপন বাবু”, যা রিটেইল ডিসকাউন্ট ও কুপন ডিলের জন্য বিশেষ ছিল।
তিন মাসেই ১ লক্ষ ব্যবহারকারী হলেও, ভারতীয় স্টার্টআপের সাফল্য থাকা সত্ত্বেও সংবাদমাধ্যমের নীরবতা তাদের বৃহৎ বাজার তৈরি করতে দেয়নি।
মিডিয়ার প্রচারের অভাবে ফান্ডিং মেলেনি। পরে অ্যাপটি বন্ধ হয়ে যায়।
আর এখানেই আবার প্রশ্ন উঠে আসে, ভারতীয় অ্যাপ ও উদ্যোগের প্রচারে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা কি যথাযথ?
গুগল প্লে স্টোরের শীর্ষ ৫০ অ্যাপের মধ্যে মাত্র ১১টি ভারতীয়
এক বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, ভারতের গুগল প্লে স্টোরের টপ ৫০ ডাউনলোডেড অ্যাপের মধ্যে মাত্র ১১টি ভারতীয় অ্যাপ।
এর মধ্যে অনেকগুলি ভারতীয় স্টার্টআপ সফলতা পেয়েছে জনগণের সমর্থনে, কিন্তু কেন ভারতীয় অ্যাপগুলি মূলধারার মিডিয়ায় পর্যাপ্ত গুরুত্ব পাচ্ছে না প্রশ্নটি থেকেই গেছে।
বারবার দেখা গেছে, মিডিয়া কেন বিদেশী অ্যাপের তুলনায় দেশীয় অ্যাপকে কম প্রচার করে — তার জন্য সরাসরি আর্থিক প্রভাব এবং গ্লোবাল লবির প্রভাব থাকছে।
৭০% ভারতীয় উদ্যোক্তা মিডিয়ার সহায়তা চান
এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ৭০% ভারতীয় প্রযুক্তি উদ্যোক্তা বিশ্বাস করেন যে মিডিয়া ও স্টার্টআপ সম্পর্ক যদি মজবুত হতো, তাহলে তাঁদের পণ্য দ্রুত বাজারে ছড়িয়ে পড়তো।
কিন্তু বাস্তবে, ভারতীয় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি কি সংবাদমাধ্যমে পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছে — এই প্রশ্ন এখনও উত্তরবিহীন থেকে গেছে।
দেশীয় অ্যাপ বনাম বিদেশী অ্যাপ: বাস্তব যুদ্ধ
আজও দেশীয় অ্যাপ বনাম বিদেশী অ্যাপ প্রতিযোগিতায় মিডিয়ার পক্ষপাতিত্ব একটা বড় বাধা।
যখন কোনো ভারতীয় অ্যাপের উন্নতি হয়, তখনও তা মূলধারার মিডিয়া কাভারেজ পায় না, অথচ কোনো বিদেশী আপডেট সামান্য হলেও চট করে খবরের শিরোনাম হয়ে যায়।
🔵 গভীর পর্যবেক্ষণ:
ভারতীয় সমাজে যখন উদ্ভাবনের এক নতুন অধ্যায় রচিত হচ্ছে, তখন দেশীয় উদ্যোগকে জনপ্রিয় করতে মিডিয়ার ভূমিকায় ঘাটতি দেখা যাওয়া সত্যিই চিন্তার বিষয়।
এই অবহেলা ভবিষ্যতে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার স্বপ্নকে ধাক্কা দিতে পারে। তাই এখনই প্রশ্ন তোলা জরুরি —
সংবাদমাধ্যম কি ভারতীয় উদ্ভাবনকে অবজ্ঞা করছে?

কারা এই পরিবর্তনের পিছনে আছে?
ভারতীয় অ্যাপ এবং ভারতীয় স্টার্টআপ যখন মূলধারার মিডিয়া কাভারেজ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তখন প্রশ্ন উঠছে—এই পরিবর্তনের আসল কারিগর কারা? গভীরে গেলেই বোঝা যায়, একাধিক শক্তি একসঙ্গে কাজ করছে। চলুন বিশ্লেষণ করে দেখা যাক:
বৈশ্বিক প্রযুক্তি লবি: “গোপন শক্তির” প্রভাব
আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় বাজার দখলে রাখতে চায়।
এদের বিশাল বিজ্ঞাপন বাজেটের কারণে মূলধারার মিডিয়া কাভারেজে নিরপেক্ষতা হারিয়ে যাচ্ছে।
মিডিয়া কেন বিদেশী অ্যাপের তুলনায় দেশীয় অ্যাপকে কম প্রচার করে—তার অন্যতম কারণ এই লবি-চাপ।
২০১৮ সালে এক বড় আন্তর্জাতিক সংস্থা ভারতে তাদের মার্কেটিং বাজেট তিনগুণ বাড়িয়েছিল, এবং সেই বছরই ভারতীয় অ্যাপ ও উদ্যোগের প্রচারে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
দেশীয় মিডিয়া হাউসগুলির নির্ভরতাও একটা বড় কারণ
অনেক ভারতীয় মিডিয়া সংস্থা বিদেশী বিজ্ঞাপনের উপর নির্ভরশীল।
ফলে, তারা সচেতনভাবেই দেশের নিজস্ব অ্যাপ ও স্টার্টআপকে মিডিয়ার উপেক্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
🧩 উদাহরণ:
একসময় জনপ্রিয় ভারতীয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম “হিকচ্যাট” (Hike Chat) বাজারে এলেও, ভারতীয় স্টার্টআপের সাফল্য থাকা সত্ত্বেও সংবাদমাধ্যমের নীরবতা তার জনপ্রিয়তাকে ধাক্কা দেয়।
সংবাদমাধ্যম কি ভারতীয় উদ্ভাবনকে অবজ্ঞা করছে—এই প্রশ্ন তখন থেকেই জোরালো হয়।
প্রযুক্তি ভোক্তাদের মানসিকতা: “বিদেশী মানেই ভালো”
বহু ভারতীয় প্রযুক্তি ব্যবহারকারী আজও মনে করেন, বিদেশী অ্যাপ মানেই উন্নতমানের।
মিডিয়া এই প্রচারণাকে আরও জোরদার করেছে, সরাসরি বা পরোক্ষভাবে।
🧩 বিস্ময়কর সত্য:
ভারতে যখন “চিংারি” (Chingari) নামের ভারতীয় অ্যাপ টিকটকের বিকল্প হিসেবে এল, তখনও কেন ভারতীয় অ্যাপগুলি মূলধারার মিডিয়ায় পর্যাপ্ত গুরুত্ব পাচ্ছে না—এই অভিযোগ সামনে আসে।
স্টার্টআপ ফান্ডিং ইকোসিস্টেমের সীমাবদ্ধতা
ভারতীয় বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলির তুলনায় বিদেশী বিনিয়োগকারীদের দাপট বেশি।
মিডিয়া রিপোর্টিংও অনেকাংশে সেই চাহিদার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
“ShareChat” —একটি সম্পূর্ণ ভারতীয় স্টার্টআপ, যার ২০১৫ সালে সূচনা। প্রাথমিকভাবে খুব কম মূলধারার মিডিয়া কাভারেজ পেয়েছিল।
কিন্তু নিজের যোগ্যতায় এবং জনগণের সমর্থনে ধীরে ধীরে উঠে আসে।
আজ প্রশ্ন ওঠে, যদি সেই সময় ভারতীয় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি সংবাদমাধ্যমে পর্যাপ্ত সুযোগ পেত, তাহলে তাদের উত্থান আরও দ্রুত হতে পারত কি?
নীতিনির্ধারকদের উদাসীনতা
দেশের প্রযুক্তি নীতিনির্ধারকেরা অনেক সময় নিজেদের উদ্যোগকে প্রোমোট করার যথেষ্ট প্রচেষ্টা নেন না।
ফলস্বরূপ, দেশীয় উদ্যোগকে জনপ্রিয় করতে মিডিয়ার ভূমিকায় ঘাটতি থেকেই যায়।
🧩 পর্যবেক্ষণ:
সরকারি প্রকল্পগুলিতে যখন বিদেশী অ্যাপের ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেখা যায়, তখন সাধারণ মানুষের মনেও ভারতীয় অ্যাপের উন্নতি নিয়ে সংশয় তৈরি হয়।
ভারতীয় অ্যাপ এবং ভারতীয় স্টার্টআপের প্রতি মূলধারার মিডিয়া কাভারেজের অভাব: বাংলার প্রযুক্তি সংস্কৃতিতে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব
ভারতীয় অ্যাপ এবং ভারতীয় স্টার্টআপ যখন মূলধারার মিডিয়া কাভারেজ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তখন এর সবচেয়ে সূক্ষ্ম কিন্তু গভীর প্রভাব পড়ছে আমাদের প্রতিদিনের জীবনে, বিশেষ করে বাংলায়। চলুন, বিশ্লেষণ করি প্রতিটি দিক:
প্রযুক্তি গ্রহণে মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব
আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি
ভারতীয় স্টার্টআপের সাফল্য থাকা সত্ত্বেও সংবাদমাধ্যমের নীরবতা নতুন উদ্যোক্তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিচ্ছে।
বাংলার তরুণ প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা মনে করেন, যদি মূলধারার মিডিয়া কাভারেজ না থাকে, তবে তাদের উদ্যোগের টেকসই ভবিষ্যত নেই।
বিদেশী মোহের বিস্তার
কেন ভারতীয় অ্যাপগুলি মূলধারার মিডিয়ায় পর্যাপ্ত গুরুত্ব পাচ্ছে না — এই প্রশ্নের অভাবে, বিদেশী অ্যাপের প্রতি অন্ধ অনুরাগ তৈরি হচ্ছে।
বাংলা অঞ্চলে অনেক স্টার্টআপই নিজস্ব অ্যাপ তৈরি করেও বাজারে টিকে থাকতে পারছে না।
এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলায় ৭৩% স্টার্টআপ উদ্যোক্তা মনে করেন, দেশীয় উদ্যোগকে জনপ্রিয় করতে মিডিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত অপর্যাপ্ত।
ভাষা ও সংস্কৃতির উপর চাপ
বাংলা ভাষার উপেক্ষা
ভারতীয় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি সংবাদমাধ্যমে পর্যাপ্ত সুযোগ না পাওয়ায় বাংলা ভাষায় তৈরি অ্যাপ এবং প্ল্যাটফর্মের প্রসার সীমিত হয়ে যাচ্ছে।
গ্লোবাল অ্যাপগুলিতে বাংলা ভাষার অপশন থাকলেও, তা প্রায়ই অগোছালো বা ভুল-ভ্রান্তিতে ভরা।
স্থানীয় সমস্যা উপেক্ষা
বাংলা ভাষাভাষী মানুষের সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য যে ভারতীয় অ্যাপ তৈরি হচ্ছে, সেগুলি মূলধারার মিডিয়া কাভারেজের অভাবে অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে।
“বাংলার স্টার্টআপ ‘KhojBangla’ একটি স্থানীয় সার্চ ইঞ্জিন তৈরির চেষ্টা করেছিল, যা শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কাজ করত। কিন্তু ভারতীয় স্টার্টআপের সাফল্য থাকা সত্ত্বেও সংবাদমাধ্যমের নীরবতা তাদের জনপ্রিয়তার পথে বিশাল বাধা হয়ে দাঁড়ায়। শেষমেশ ২০২১ সালে তারা অপারেশন বন্ধ করতে বাধ্য হয়।”

অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানের প্রভাব
কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ হারানো
স্থানীয় ভারতীয় স্টার্টআপ যদি পর্যাপ্ত মূলধারার মিডিয়া কাভারেজ পেত, তবে বাংলায় বহু যুবক-যুবতীর জন্য নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হত।
মিডিয়ার এই উপেক্ষা সরাসরি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কমিয়ে দিয়েছে।
বিনিয়োগে সংকট
বিনিয়োগকারীরা মিডিয়া-ভিত্তিক ইমেজের উপর নির্ভর করেন।
যখন দেশীয় উদ্যোগকে জনপ্রিয় করতে মিডিয়ার ভূমিকা দুর্বল থাকে, তখন স্থানীয় স্টার্টআপগুলিতে বিনিয়োগ আকর্ষণের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।
কলকাতার “SwapnoTech” স্টার্টআপ একটি AI-ভিত্তিক বাংলা ভাষার অ্যাসিস্টেন্ট তৈরি করেছিল।
কিন্তু মিডিয়া সাপোর্টের অভাবে বড় বিনিয়োগ টানতে পারেনি। শেষমেশ তাদের উদ্ভাবন বিদেশী এক সংস্থা কিনে নেয় — সেটি পরে আন্তর্জাতিকভাবে সফল হয়।
সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন
আত্মমর্যাদার সংকট
যখন ভারতীয় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি সংবাদমাধ্যমে পর্যাপ্ত সুযোগ পায় না, তখন মানুষের মধ্যে নিজেদের সক্ষমতার প্রতি সন্দেহ জন্মায়।
বাংলার প্রযুক্তি-প্রেমীরা নিজের দেশীয় উদ্ভাবনকেই কম মূল্যের চোখে দেখতে শুরু করেন।
নতুন প্রজন্মের ওপর প্রভাব
তরুণরা যখন দেখে যে ভারতীয় স্টার্টআপ বা ভারতীয় অ্যাপ মূলধারায় নেই, তারা পশ্চিমা মডেলকেই আদর্শ ধরে।
এর ফলে স্থানীয় উদ্ভাবন ও সংস্কৃতির বিকাশে বাঁধা সৃষ্টি হয়।
২০১৯ সালে একদল বাঙালি ছাত্র “BongBeat” নামে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছিল, যেখানে শুধুমাত্র বাংলা সংস্কৃতি ও শিল্পকে তুলে ধরা হত।
কিন্তু সংবাদমাধ্যম কি ভারতীয় উদ্ভাবনকে অবজ্ঞা করছে — এই বাস্তবতার শিকার হয়ে প্ল্যাটফর্মটি অল্পদিনের মধ্যেই হারিয়ে যায়।
ভারতীয় অ্যাপ এবং ভারতীয় স্টার্টআপ যখন মূলধারার মিডিয়া কাভারেজ থেকে বঞ্চিত হয়, তখন তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ে প্রযুক্তি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং সমাজের মনস্তত্ত্বের উপর — বিশেষ করে বাংলার মতো ভাষাভিত্তিক অঞ্চলে।
কেন ভারতীয় অ্যাপগুলি মূলধারার মিডিয়ায় পর্যাপ্ত গুরুত্ব পাচ্ছে না — এই প্রশ্ন আজ না তুললে, ভবিষ্যতে দেশীয় প্রযুক্তির স্বপ্ন আরও পিছিয়ে পড়বে।
কিছু বাস্তব উদাহরণ: ভারতীয় অ্যাপ এবং ভারতীয় স্টার্টআপের প্রতি মূলধারার মিডিয়া কাভারেজের অভাবের দৃষ্টান্ত
ভারতীয় অ্যাপ এবং ভারতীয় স্টার্টআপ, যারা নিজেদের উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার মাধ্যমে বিপ্লব ঘটাতে পারত, মূলধারার মিডিয়া কাভারেজের অভাবে প্রায় নিঃশব্দেই হারিয়ে গিয়েছে। নিচে কিছু বাস্তব উদাহরণ উল্লেখ করা হল, যেখানে কেন ভারতীয় অ্যাপগুলি মূলধারার মিডিয়ায় পর্যাপ্ত গুরুত্ব পাচ্ছে না তা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে:
“Hike Messenger” – ভারতের প্রথম জাতীয় মেসেজিং অ্যাপের পতন
সংক্ষিপ্ত উত্থান এবং দ্রুত পতন
ভারতীয় অ্যাপ Hike Messenger ২০১২ সালে আত্মপ্রকাশ করেছিল, এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ১০০ মিলিয়নেরও বেশি ব্যবহারকারী অর্জন করেছিল।
কিন্তু মূলধারার মিডিয়া কাভারেজের অভাবের কারণে, এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীদের তুলনায় কম প্রচারে, Hike ধীরে ধীরে প্রান্তে চলে যায়।
মিডিয়া উপেক্ষা বনাম বিদেশী প্রচার
WhatsApp এবং Facebook Messenger-এর জন্য নিয়মিত মিডিয়া প্রমোশন এবং ব্র্যান্ডিং ছিল, যা দেশীয় উদ্যোগকে জনপ্রিয় করতে মিডিয়ার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা স্পষ্ট করে।
🧩 Uncommon Insight:
Hike প্রথমবারের মতো “Hidden Mode” ফিচার চালু করেছিল, যা প্রাইভেসির দিক থেকে অত্যন্ত যুগান্তকারী ছিল — অথচ এই ফিচার কখনও মূলধারায় আলোচনায় আসেনি।
“Chingari App” – ভারতীয় TikTok বিকল্পের সংগ্রাম
সংক্ষিপ্ত জনপ্রিয়তা এবং সংকট
TikTok নিষিদ্ধ হওয়ার পরে ভারতীয় স্টার্টআপ Chingari App দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
কিন্তু ভারতীয় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি সংবাদমাধ্যমে পর্যাপ্ত সুযোগ পায়নি, যার ফলে চিংগারি গ্লোবাল প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে।
মিডিয়া মনোযোগের অসম বিভাজন
যখন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম যেমন Instagram Reels বা YouTube Shorts-কে বিপুল প্রচার দেয়া হয়, তখন Chingari App-এর আপডেট বা অর্জনগুলি অদৃশ্য থেকে যায়।
২০২০ সালে, Chingari ১০ মিলিয়ন ডাউনলোড মাত্র ২২ দিনের মধ্যে অর্জন করেছিল — অথচ তখনও ভারতের একাধিক প্রভাবশালী মিডিয়া হাউস তাদের সাফল্যকে গুরুত্ব দেয়নি।
ফলাফল? ব্যবহারকারীদের বড় অংশ Reels-এর দিকে সরে যায়।
“Koo App” – ভারতের নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম
ভারতের জন্য তৈরি, তবুও অন্তর্দৃষ্টি কম
ভারতীয় অ্যাপ Koo, যেটি ভারতীয় ভাষাভাষীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি, ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও মূলধারার মিডিয়া কাভারেজ সেভাবে পায়নি।
বিদেশী প্ল্যাটফর্ম বনাম দেশীয় প্রচেষ্টা
Twitter-এর বিকল্প হিসেবে Koo আত্মপ্রকাশ করলেও, টেক ব্লগ, নিউজ চ্যানেল, এবং মিডিয়া ওয়েবসাইটে Twitter-কে ঘিরে বেশি প্রচার চলত।
Koo App আজ ২০টিরও বেশি ভারতীয় ভাষায় ব্যবহারযোগ্য হলেও, ২০২২ সালের রিপোর্টে দেখা যায়, ভারতের মোট সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর মাত্র ৮% Koo-তে একাউন্ট তৈরি করেছিল।
প্রধান কারণ: ভারতীয় স্টার্টআপের সাফল্য থাকা সত্ত্বেও সংবাদমাধ্যমের নীরবতা।
“Kutumb App” – নিরব বিপ্লব
স্থানীয় কমিউনিটির সোশ্যাল নেটওয়ার্ক
ভারতীয় স্টার্টআপ Kutumb App বিশেষ করে স্থানীয় ভাষায় কমিউনিটি বিল্ড করার জন্য তৈরি হয়েছিল, যা বাংলার মতো ভাষাভিত্তিক রাজ্যের জন্য আদর্শ।
প্রচারের অভাবে সীমিত বিস্তার
কেন ভারতীয় অ্যাপগুলি মূলধারার মিডিয়ায় পর্যাপ্ত গুরুত্ব পাচ্ছে না — Kutumb তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
যতক্ষণ না Google Play Store-এ টপ চার্টে এল, ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ Kutumb-এর নামও জানত না।
Kutumb-এর ফাউন্ডার একবার একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “If we had the media push that Silicon Valley apps enjoy, we could have built India’s largest local social network within a year.”
এ কথা যেন পুরো দেশীয় উদ্যোগকে জনপ্রিয় করতে মিডিয়ার ভূমিকার সত্যতা প্রকাশ করে।
এই সমস্ত বাস্তব উদাহরণ প্রমাণ করে যে, ভারতীয় অ্যাপ এবং ভারতীয় স্টার্টআপ কেবলমাত্র উদ্ভাবনী শক্তির অভাবে পিছিয়ে পড়ছে না, বরং মূলত মূলধারার মিডিয়া কাভারেজের অভাব তাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যতদিন না আমরা প্রশ্ন করব — সংবাদমাধ্যম কি ভারতীয় উদ্ভাবনকে অবজ্ঞা করছে? — ততদিন এই পরিস্থিতি পরিবর্তন সম্ভব নয়।

তাহলে মিডিয়া কেন এমন করছে?
ভারতীয় অ্যাপ এবং স্টার্টআপগুলো যদি এত ভালো, উদ্ভাবনী এবং সম্ভবনাময় হয়, তবে মূলধারার মিডিয়া কাভারেজ এদেরকে কেন এত অবহেলা করছে? কেন ভারতীয় স্টার্টআপ এবং ভারতীয় অ্যাপ গুলি ঠিকমত প্রচার পাচ্ছে না, অথচ বিদেশী অ্যাপগুলো পুরোপুরি মিডিয়া মনোযোগ পায়? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং কম পরিচিত তথ্য উঠে আসে। আসুন একে একে আলোচনা করি:
বৈশ্বিক বাজারের প্রতি প্রবণতা এবং পক্ষপাতিত্ব
আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের প্রতি আগ্রহ
একেবারে শুরু থেকেই মূলধারার মিডিয়া কাভারেজ আন্তর্জাতিক অ্যাপগুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে। যেমন, WhatsApp, Facebook, Instagram—এসব অ্যাপ এতটাই প্রসারিত এবং প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে যে এগুলোর কোনো সাফল্য, আপডেট, বা নতুন ফিচার মিডিয়ায় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
ভারতীয় অ্যাপগুলো যখন নিজেদের স্থান তৈরির চেষ্টা করছে, তখন তাদের প্রচারের জন্য মিডিয়া সেভাবে সময় দেয় না। বিদেশী অ্যাপগুলোর সাথে তুলনায় এদের প্রাধান্য কম থাকে।
২০২০ সালে, TikTok যখন ভারতে নিষিদ্ধ হয়, তখন Chingari এবং Moj এর মতো ভারতীয় অ্যাপ গুলোর দ্রুত উত্থান হয়েছিল। তবে, এসব অ্যাপের সাফল্য সাধারণত মূলধারার মিডিয়া কাভারেজ থেকে বাদ পড়ে যেত। এতে, তারা নিকটবর্তী দেশগুলির মিডিয়া এবং মার্কেটিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রচারের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে, তবে ভারতের অভ্যন্তরীণ মিডিয়ায় তাদের প্রচার ছিল একেবারে সীমিত।
ব্যবসায়িক কৌশল এবং কর্পোরেট পক্ষপাত
আন্তর্জাতিক বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী দখল
অনেক ভারতীয় স্টার্টআপ যাদের অনেক বড় সম্ভাবনা আছে, তাদের মধ্যে মিডিয়া মনোযোগের অভাবের আরেকটি কারণ হলো আন্তর্জাতিক কর্পোরেট দখল। মিডিয়া সাধারণত বড়, আন্তর্জাতিক সংস্থার দ্বারা প্রভাবিত হয়।
ভারতীয় অ্যাপ এবং ভারতীয় স্টার্টআপদের কাছে সাধারণত বিশাল পরিমাণ বিনিয়োগ বা পুঁজির অভাব থাকে, যার ফলে তাদের প্রচারের জন্য বড় মিডিয়া হাউসের সাপোর্ট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
🧩 Uncommon Insight:
অনেক ক্ষেত্রে, ভারতীয় স্টার্টআপগুলির কার্যক্রম বা সাফল্য সম্পর্কে রিপোর্টিং করা হলেও, বিনিয়োগকারী বা মিডিয়া হাউসের আগ্রহের অভাবে সেগুলি খুব বেশি দৃশ্যমান হয় না।
মিডিয়া হাউসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা
বিদেশী কোম্পানির প্রতি মিডিয়া সংস্থাগুলোর অর্থনৈতিক আগ্রহ
সংবাদমাধ্যমের পক্ষপাতিত্ব কিছুটা রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সুবিধার বিষয়ও হতে পারে। বিদেশী কোম্পানির জন্য, যারা প্রচুর পরিমাণে অর্থ বিনিয়োগ করে, মিডিয়া সংস্থাগুলি তাদের কনটেন্টের প্রচারের জন্য উৎসাহিত হয়।
এই সব কিছুর মধ্যেই, ভারতীয় স্টার্টআপ গুলির বয়স, আয় এবং রপ্তানি সীমাবদ্ধতার কারণে তারা মূলধারার মিডিয়া কাভারেজ থেকে পিছিয়ে পড়ে।
🧩 True Story:
২০১৫ সালে, ভারতীয় Paytm স্টার্টআপটি মিডিয়া কাভারেজ না পাওয়ার কারণে তাদের প্রতিযোগী Google Pay এবং Amazon Pay-এর বিপক্ষে ব্যবসায়িক যুদ্ধ চালাতে শুরু করেছিল। Paytm-এর সাফল্য গণমাধ্যমে পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি, তবে পরবর্তীতে এটি ভারতীয় অর্থনীতির একটি বড় অঙ্গ হয়ে ওঠে।
লোকাল অ্যাপের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রভাব
বিশ্বব্যাপী ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিশ্বস্ততা
ভারতীয় অ্যাপগুলো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের মতো বিশ্বব্যাপী ব্যবহারকারীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে না। বিদেশী অ্যাপগুলোর বিশ্বব্যাপী পরিচিতি এবং বিশ্বস্ততা তাদের প্রচারের জন্য বড় সুবিধা।
মিডিয়া, সেই বিশ্বস্ততা এবং আন্তর্জাতিক সাফল্যের প্রতি অনেক বেশি মনোযোগ দেয়। এর বিপরীতে, দেশীয় উদ্যোগকে জনপ্রিয় করতে মিডিয়ার ভূমিকা একেবারে কম।
🧩 Uncommon Fact:
ভারতীয় অ্যাপ গুলির আন্তর্জাতিক ব্যবহারকারীর অভাব তাদের প্রচারের পথকেও রুদ্ধ করে। উদাহরণস্বরূপ, Zoho বা Freshworks যদিও ভারতে সফল, কিন্তু তাদের আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণে মিডিয়া উজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেনি।
সংবাদমাধ্যমের একগুঁয়ে মনোভাব
নতুনত্বকে ভয়
ভারতীয় অ্যাপ এবং স্টার্টআপগুলির অনেক ক্ষেত্রে একটি সাধারণ সমস্যা থাকে, সেটি হলো নতুনত্বের প্রতি মিডিয়ার একগুঁয়ে মনোভাব। ভারতীয় স্টার্টআপ গুলি সাধারণত দ্রুত বৃদ্ধি পায়, কিন্তু মিডিয়া কাভারেজ তেমন অভ্যস্ত নয়, বিশেষ করে যদি তারা “বড় কিছু না হয়”।
ভারতীয় অ্যাপ এবং ভারতীয় স্টার্টআপ গুলির নতুনত্ব এবং সৃজনশীলতা, যেগুলি তাদের উদ্ভাবন বা ব্যবসায়িক মডেল থেকে উঠে আসে, সেগুলি মিডিয়াতে যথাযথ প্রচার পায় না।
🧩 True Story:
২০১৭ সালে OYO Rooms ভারতের একটি বড় স্টার্টআপ হয়ে ওঠে, কিন্তু এর জনপ্রিয়তা এবং সাফল্য মিডিয়ায় পরিপূর্ণভাবে স্থান পায়নি। সেই সময়ের জন্য অনেকেই বলেছিলেন, “এটি যদি একটি বিদেশী কোম্পানি হতো, তবে মিডিয়া তাদের সাফল্য দেখাতো আরও বেশি।”
এই সব কারণগুলোর সংমিশ্রণই ভারতীয় অ্যাপ এবং ভারতীয় স্টার্টআপ গুলির জন্য মিডিয়ায় পরিপূর্ণ প্রচার এবং খ্যাতি অর্জনের পথে বাধা সৃষ্টি করে।
মিডিয়া কেন বিদেশী অ্যাপের তুলনায় দেশীয় অ্যাপকে কম প্রচার করে তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করার জন্য আমাদের আরও পর্যালোচনা দরকার। তবে, পরবর্তী প্রজন্মের ভারতীয় উদ্ভাবনরা যদি ঠিকমতো মিডিয়া কাভারেজ পায়, তবেই তারা বিদেশী প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সমানে সমান প্রতিযোগিতা করতে পারবে।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা (আশার আলো!)
বিশ্ববিদ্যালয় বা স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের মধ্যে আসল গল্পের একেবারে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। ভারতীয় অ্যাপ এবং ভারতীয় স্টার্টআপ গুলোর জন্য একটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খোলার সময় এসেছে। এই খাতের ভবিষ্যত সম্পর্কে আরো বিস্তারিত আলোচনা করলে, আমরা দেখতে পাবো যে তারা কি ধরনের অগ্রগতি সাধন করতে পারে এবং কীভাবে মূলধারার মিডিয়া কাভারেজ তাদের সহায়ক হতে পারে।
প্রযুক্তির বিকাশ এবং গ্লোবাল মার্কেটের প্রসার
ভারতীয় প্রযুক্তি শিল্প বিশ্বব্যাপী একটি বড় সাফল্য দেখাতে শুরু করেছে। অনেক ভারতীয় স্টার্টআপের এখন বৈশ্বিক সম্প্রসারণ চলছে, যা ভারতীয় অ্যাপ গুলির গ্লোবাল বাজারে প্রবেশের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, Zomato, Swiggy, এবং PhonePe বিশ্বব্যাপী তাদের সেবা সম্প্রসারণ করেছে। এটি ভারতীয় প্রযুক্তির প্রতি নতুন ধারণা তৈরি করছে এবং মিডিয়ারও আরও আগ্রহ তৈরি করতে সহায়ক হতে পারে।
🧩 True Story:
যখন Zomato প্রথম শুরু হয়, এটি শুধুমাত্র ভারতের বাজারে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু, একসময় এটি মিডিয়া কাভারেজ পেয়ে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার বাজারে প্রবেশ করল। এখন Zomato এর উদ্ভাবন এবং তার দ্রুতবর্ধনশীল ব্যবসা পুরো বিশ্বের প্রযুক্তি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
সরকারী সহায়তা এবং উৎসাহ
ভারতীয় স্টার্টআপ গুলির জন্য সরকারের ইতিবাচক মনোভাব এবং উৎসাহ অনেক বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারত সরকার স্টার্টআপদের জন্য নানা স্কিম চালু করেছে যেমন Start-up India Scheme, যার মাধ্যমে অনেক নতুন অ্যাপ এবং স্টার্টআপ বিনিয়োগ পাচ্ছে। এভাবে, যদি ভারতীয় অ্যাপ এবং স্টার্টআপ গুলির জন্য মিডিয়া আরও প্রচারের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে, তা হলে তা তাদের সাফল্যকে আরো ত্বরান্বিত করবে।
উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ
ভারতীয় প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ অনেক promising। উদাহরণস্বরূপ, AI (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা), machine learning, blockchain ইত্যাদির মাধ্যমে ভারতীয় স্টার্টআপগুলি বিপ্লব ঘটাতে প্রস্তুত। যদিও ভারতীয় অ্যাপ এর সাফল্য মাঝেমধ্যে মিডিয়া থেকে বাদ পড়ে যায়, তবে এই প্রযুক্তির পরবর্তী স্তরে পৌঁছানোর সাথে সাথে তা আন্তর্জাতিক মিডিয়াতেও গুরুত্ব পাবে।
ভারতীয় উদ্ভাবন ইতিমধ্যে অনেক বিশ্ববাজারে সাড়া ফেলছে, এবং আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে তার মূল্য এবং গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে। এখানেই মূলধারার মিডিয়া কাভারেজ আরও সাহায্য করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, BYJU’s বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ই-লার্নিং অ্যাপ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে এবং Indigo Paints ইন্ডাস্ট্রিতে সেরা স্টার্টআপের একটি উদাহরণ।
কিছু ভারতীয় অ্যাপ ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের সাফল্যের স্বীকৃতি পাচ্ছে, কিন্তু বিদেশী অ্যাপগুলির তুলনায় তাদের প্রচার অনেক কম। তবে ভবিষ্যতে, যেমন TikTok এর বন্ধ হওয়া পর, ভারতীয় বিকল্পগুলো আরও বড় সুযোগের মুখোমুখি হতে পারে।
মিডিয়ার ইতিবাচক মনোভাব এবং অংশীদারিত্ব
যদি ভারতীয় অ্যাপ এবং স্টার্টআপ গুলির প্রতি মূলধারার মিডিয়া কাভারেজ আরও উৎসাহজনক হয়, তবে এটি তাদের আরো বড় এক সাফল্যের দিকে নিয়ে যেতে পারে। মিডিয়ার ইতিবাচক মনোভাব এবং এগুলির প্রচার ভারতীয় প্রযুক্তির উদ্ভাবনকে আরও জনপ্রিয় করবে। গ্লোবাল মার্কেট এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ার মধ্যে এই যোগাযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যদি ভারতীয় স্টার্টআপগুলির প্রচার মিডিয়া দ্বারা যতটা সম্ভব করা হয়, তাহলে তাদের সাফল্যের সম্ভাবনা অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। মিডিয়া এবং স্টার্টআপগুলির মধ্যে সহযোগিতা এক নতুন যুগের সূচনা করতে পারে।
প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ভারতে দেশীয় উদ্যোগের শক্তি
দেশীয় অ্যাপ বনাম বিদেশী অ্যাপ এই তুলনা ভারতীয় প্রযুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। যদিও বিদেশী অ্যাপ এখন পর্যন্ত গ্লোবাল বাজারে আধিপত্য বিস্তার করেছে, কিন্তু ভারতীয় অ্যাপগুলির প্রযুক্তিগত ক্ষমতা এবং উদ্ভাবন সেই সক্ষমতা অর্জন করার দিকে এগোচ্ছে।
ভারতীয় প্ল্যাটফর্মের মধ্যে Swiggy, Flipkart, Paytm এদের প্রতিযোগিতা অন্যদের তুলনায় অনেক বড় এবং উন্নত মানের। তারা ভারতীয় অ্যাপের উন্নতি এবং সাফল্যের পথ দেখাচ্ছে।
Paytm যখন প্রথম এসেছে, তখন বহু মানুষ সন্দেহ করেছিল যে এটি টিকতে পারবে কিনা। কিন্তু ধীরে ধীরে এটি ভারতের এক অন্যতম জনপ্রিয় ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। তাদের অভ্যন্তরীণ উদ্ভাবন এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি মিডিয়াতে প্রশংসিত হয়নি, তবে বিশ্বব্যাপী এর কদর বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভবিষ্যত: কি অপেক্ষা করছে?
বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো উদ্ভাবনী শক্তি, সরকারের সহায়তা, আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ এবং মিডিয়া কাভারেজের ব্যাপক ভূমিকা যদি একত্রিত হয়, তবে ভারতীয় অ্যাপ এবং স্টার্টআপ গুলির ভবিষ্যত অত্যন্ত উজ্জ্বল। মূলধারার মিডিয়া কাভারেজ যদি তাদের প্রচারের জন্য আরো আগ্রহী হয়ে ওঠে, তবে আমরা অনেক ভারতীয় অ্যাপ এবং স্টার্টআপকে বিশ্বব্যাপী এক নতুন সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে দেখতে পাবো।
ভারতীয় প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ এখন অনেক বেশি সম্ভাবনাময় এবং ভারতীয় উদ্ভাবন যদি ঠিকমতো প্রচারিত হয়, তবে এটি শুধু ভারতীয় ইকোসিস্টেমই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও এক নতুন বিপ্লব সৃষ্টি করবে।

