আদালতের কঠোর নির্দেশ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের নজরদারি, আর Kolkata Police–এর কড়া প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে কাগজে-কলমে যেন পুরো পরিকল্পনা সাজানো ছিল। তবু দীপাবলির রাতে বাস্তব ছবিটা ছিল একেবারে অন্যরকম। রাত নামতেই শহরের আকাশ ফেটে পড়ল Diwali Crackers–এর বধির করা আওয়াজে। আদালতের নির্ধারিত সময়সীমা ও শব্দসীমা উপেক্ষা করে শহর যেন শব্দদূষণের এক নির্লজ্জ উৎসবে মেতেছিল।
সূচিপত্র
Toggle🔹 STORY HIGHLIGHTS (READ BOX):
আদালত নির্ধারিত সময়: রাত ৮টা–১০টা
সর্বোচ্চ শব্দসীমা: ১২৫ ডেসিবেল, ৪ মিটার দূরত্বে পরিমাপযোগ্য
কেবলমাত্র ‘green crackers’ অনুমোদিত
৬,০০০ কেজিরও বেশি নিষিদ্ধ বাজি উদ্ধার করেছে Kolkata Police
PESO, NEERI ও PCB–র মধ্যে সমন্বয়ের অভাব
সাধারণ নাগরিকদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা স্পষ্ট
অস্পষ্ট নিয়মে বিভ্রান্তি
এবারের Diwali Crackers–এর বিক্রিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে “green crackers” শনাক্তকরণ নিয়ে। আগের বছর পর্যন্ত বাজির বাক্সে QR কোড থাকত, যা স্ক্যান করে বোঝা যেত বাজিটি পরিবেশবান্ধব কিনা। কিন্তু এবার সেই ব্যবস্থা সম্পূর্ণ তুলে দেওয়া হয়েছে।
বাগুইআটির এক ক্রেতা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন,
“গত বছর পর্যন্ত আমরা QR কোড স্ক্যান করে যাচাই করতাম। এবার সেই সুযোগই নেই। শুধু বলা হয়েছে অনলাইনে তালিকা আছে, কিন্তু সাধারণ মানুষ তা যাচাই করবে কীভাবে?”
শব্দমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ১২৫ ডেসিবেলের সীমা ও ‘green crackers’ ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে ক্রেতাদের হাতে কোনো পরীক্ষার সুযোগ নেই। NEERI জানিয়েছে, ১,৪০৩টি নিবন্ধিত নির্মাতার নাম তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু কতজন মানুষ সেই তালিকা দেখে বাজি কিনছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
পরীক্ষার অব্যবস্থা ও প্রশাসনিক ত্রুটি
প্রতি বছর মতো এ বছরও Kolkata Police বাজি পরীক্ষার আয়োজন করেছিল দীপাবলির পাঁচ দিন আগে। কিন্তু সেই পরীক্ষায় NEERI, PESO ও PCB–র প্রতিনিধিরা উপস্থিত না থাকায় কার্যত পরীক্ষা বাতিল হয়।
একজন PCB কর্মকর্তা জানান,
“পরীক্ষার চিঠি আমরা সেদিন সকালেই পেয়েছিলাম। এত অল্প সময়ে প্রতিনিধি পাঠানো সম্ভব হয়নি। পরীক্ষা অনেক আগে হওয়া উচিত ছিল, বাজার খোলার আগে।”
ফলে বাজির গুণমান যাচাই না করেই বিক্রি শুরু হয়ে যায়। প্রশাসনিক এই ঢিলেমি যে শব্দদূষণের আগুনে ঘি ঢেলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
নিষিদ্ধ বাজির পাহাড়, নজরদারির গলদ
গত এক সপ্তাহে Kolkata Police শহর ও আশপাশ থেকে প্রায় ৬,০০০ কেজিরও বেশি নিষিদ্ধ Diwali Crackers উদ্ধার করেছে। কিন্তু তারপরও দীপাবলির রাতে শহরের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় সেই নিষিদ্ধ বাজির আওয়াজ শোনা গেছে।
বেহালার এক বাসিন্দা খোলাখুলি বলেন,
“আমি চম্পাহাটিতে গিয়ে ₹১০,০০০ টাকার বাজি কিনেছি। ফেরার পথে একবারও পুলিশ আমার গাড়ি থামায়নি।”
এক পুলিশ আধিকারিকের দাবি,
“আমরা বহু অভিযান চালিয়েছি, কিন্তু প্রতিটি গাড়ি পরীক্ষা করা বাস্তবে সম্ভব নয়। শহরে প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি ঢোকে।”
এতে বোঝা যায়, নিষিদ্ধ বাজি রুখতে তল্লাশির ব্যবস্থায় বড় ফাঁক থেকে গেছে।
দায় চাপানোর পালা
নিষিদ্ধ ও অনুমোদিত Diwali Crackers–এর সংজ্ঞা নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে দায় চাপানো শুরু হয়েছে। পুলিশ জানায়, শব্দমাত্রা মাপার বিশেষজ্ঞ তারা নয়; সেটা করতে পারেন NEERI, PESO বা PCB–র বিজ্ঞানীরা।
PCB–র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,
“সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী PESO–র দায়িত্ব বাজির রাসায়নিক সংমিশ্রণ ও শব্দমাত্রা যাচাই করা।”
তবে PESO–র এক কর্মকর্তা পাল্টা বলেন,
“আমাদের কলকাতায় কোনও ফিল্ড টেস্টিং যন্ত্র নেই। পরীক্ষাগার নাগপুরে। আমরা বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করি, সব নির্মাতার কাছে যাওয়া সম্ভব নয়।”
এই পারস্পরিক দায় এড়ানোই শেষমেশ পুরো ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নাগরিক উদাসীনতা
Diwali Crackers–এর বেপরোয়া ব্যবহার যে শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে নাগরিক আচরণেও। পুলিশ একাধিক সচেতনতা অভিযান চালালেও তাতে কাজ হয়নি। শহরের বহু এলাকাতেই দেখা গেছে শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক—সবাই উচ্চ শব্দের বাজি ফাটাচ্ছে অবলীলায়।
কসবার এক বাসিন্দা বলেন,
“বছরে একদিনই তো বাজি ফাটাই। এতে ক্ষতি কী?”
একজন Kolkata Police আধিকারিক বলেন,
“মানুষ যদি নিজে দায়িত্ব না নেয়, তবে কোনও নিয়মই কার্যকর করা সম্ভব নয়। সহযোগিতা ছাড়া আইন প্রয়োগ করা যায় না।”
Diwali Crackers নিয়ে শহরের এই বিশৃঙ্খল চিত্র আসলে প্রশাসনিক শৈথিল্য ও নাগরিক অবহেলার মিলিত রূপ। আদালতের নির্দেশ থাকলেও যখন বাস্তবের রাস্তায় শব্দদূষণ দাপিয়ে বেড়ায়, তখন প্রশ্ন উঠতেই পারে—Kolkata Police ও অন্যান্য সংস্থার উদ্যোগ কি কেবল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবেই থেকে যাচ্ছে?
দীপাবলির পর শহরের আকাশে এখনও ঝুলে আছে একটাই প্রশ্ন—নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এত Diwali Crackers শহরজুড়ে ফাটল? আদালতের নির্দেশ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের নিয়ম, আর Kolkata Police–এর অভিযান—সবই যেন ব্যর্থতার মুখে। নাগরিক সচেতনতা না বাড়লে কিংবা কঠোর নজরদারি না থাকলে এই শব্দদূষণের দৌরাত্ম্য থামানো সম্ভব নয়। পরের বছর Diwali Crackers নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে, নয়তো Kolkata Police–এর সব প্রচেষ্টা শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ থাকবে।
